Interior ( নদীর কোলে )

Interior ( নদীর কোলে )

নদীর কোলে

বাটানগরে ৩২০০ স্কোয়ার ফিটের বিশাল ডুপ্লে অ্যাপার্টমেন্ট। পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে পূণ্যতোয়া গঙ্গা। সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে, সপ্তাহান্তে দু’দণ্ড সময় কাটাতে এর চেয়ে ভাল জায়গা আর কী বা হতে পারে? পেশায় ডাক্তার শিপ্রা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্বামী বরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবসর যাপনের ঠিকানা এটিই।

বাটানগরে ৩২০০ স্কোয়ার ফিটের বিশাল ডুপ্লে অ্যাপার্টমেন্ট। পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে পূণ্যতোয়া গঙ্গা। সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে, সপ্তাহান্তে দু’দণ্ড সময় কাটাতে এর চেয়ে ভাল জায়গা আর কী বা হতে পারে? পেশায় ডাক্তার শিপ্রা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্বামী বরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবসর যাপনের ঠিকানা এটিই। খোলামেলা, প্রশস্থ ঘর। আলোবাতাসের কোনও কমতি নেই। বাইরে নদী তার আর তার পাড় ঘিরে সবুজের সমাহার। এমন বাড়িতে ঢুকলেই মন ভাল হয়ে যায়।

বাড়িতে ঢুকেই প্রথমে বিরাট ড্রইংরুম। ভিতরে আধুনিক সোফাসেট। সোফার হালকা ক্রিম এবং মেরুনের রঙের কম্বিনেশন ঘরের হালকা দেওয়ালের সঙ্গে বেশ মানানসই। তারই সঙ্গে সাজুয্য রেখে সাজানো রয়েছে কুশানের সারি। সোফার সামনে সেন্টর টেবল। অনেকটা বক্স শেপের। গায়ে নানারকমের কারুকার্য। যেন সুন্দর পেন্টিং। কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন এটি? গৃহকর্ত্রী হেসে জানালেন, “এটি আমার ভাবনার ফসল। আমি চেয়েছিলাম একটু অন্যরকম আসবাব দিয়ে ঘর সাজাব। এই টেবলটির ভিতরে স্টোরেজও আছে। চাইলে ম্যাগাজ়িন বা অন্য কিছু রাখা যেতে পারে। চারদিকের ডিজ়াইন আমিই করেছিলাম। সেই অনুযায়ী বানানো হয়েছে।” আসলে শিপ্রা বন্দ্যোপাধ্যায় ডাক্তার হওয়ার পাশাপাশি আরও নানা বিষয়ে পারদর্শী। তার মধ্যে প্রধমেই বলতে হয় তাঁর আঁকার হাতটি ভারী সুন্দর। ঘরের চারদিকে রয়েছে তার হাতে আঁকা নানা ধরনের পেন্টিং। শুধু তাই নয়, তিনি গান ভালবাসেন, নাচ ভালবাসেন। ভালবাসেন দেশ বিদেশ ঘুরতে। জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়েছেন দেশের বাইরে। নানা দেশ থেকে নানা ধরনের স্যুভেনির সংগ্রহ করে সাজিয়েছেন ঘরের আনাচ কানাচ। তাঁর কথায়, আসলে আমরা “ প্রচুর দেশ ঘুরোছি।

আমরা সকলেই বিভিন্ন জিনিস কালেক্ট করতে ভালবাসি। যেখানেই যাই কিছু না কিছু সংগ্রহ করে নিয়ে আসি।” বাড়ির চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে তেমনই নানা নিদর্শন। এছাড়া ঘরে রয়েছে ্সংখ্য সুভ্যেনির। এমনকী, তাঁদের সংগ্রহে আছে নানা ধরনের ফসিলসও। এছাড়া রয়েছে দেশ বিদেশের নানারকম মুখোশের কালকশন। আসলে বন্দ্যোপাধ্যায় দম্পতি বিদেশে কাটিয়েছেন অনেকটা সময়। আর একটু ইতিহাসকে ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে ছিল চিরদিনই। তাই তাঁর সাজানোর জিনিসগুলিও শুধু মাত্র শোপিস হয়েই থাকেনি। বরং গল্প বললে তারা। এছাড়া তিনি আসবাবও জিজ়াইন করেন মনের মতো করে। লিভিংরুমের রং হালকা ক্রিম। তবে কনস্ট্রাস্ট আনতে একটি দেওয়ালের রঙ গাড় নীলের একটি শেড। দেওয়ালের মাঝামাঝি হালকা বাদামি ওয়ালপেপার। এই অংশে তাঁর নিজের হাতে আঁকা কৃষ্ণের ছবি। এর দু’পাশে দুটি চেয়ার। দুটি চেয়ারই এক্কেবারে ইউনিক। একটি চেয়ার বহুবর্ণ। তাতে সুন্দর পেন্টিং। অনেকটা সেন্টর টেবলের সঙ্গে সাজুয্য রেখেই করা। আর একটি চেয়ার আরও অন্যরকম, হঠাত্‌ করে দেখলে মনে হয় কেউ যেন কত্থক নাচের ভঙ্গীমায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই দুটি চেয়ারই গৃকর্ত্রীর মস্তিষ্কপ্রসূত। সোফার উলটোদিকের দেওয়ালে টিভি। টিভির নীচে আধুনিক ডিজ়াইনের টিভি ক্যাবিনেট/ইউনিট। এর উপরেও সাজানো রয়েছে নানা ধরনের শোপিস এবং স্যুভেনির। সামনে ছোট বাহারি কার্পেট। ডুপ্লে অ্যাপ্লার্টমেন্ট হওয়ায় টিভি লাগোয়া এই দেওয়ালটি অনেকটা লম্বা। টিভির উপরে রাখা রয়েছে একটি সুন্দর উডেনওয়র্ক। কাঠের উপর পাথরের কাজ করা। শিপ্রা জানালেন এটি তিনি সংগ্রহ করেছেন ব্যাংকক থেকে। এই দেওয়ালেই রয়েছে দুদি ইনভার্টেড U শেপের মতো অংশ। এর ভিতরে দুটি করে বুদ্ধ মূর্তি সাজানো।

ড্রইংরুমের একটি পিলারকে সাজানো হয়েছে মিউজ়িক ইনস্ট্রুমেন্টের মিনিয়েচার দিয়ে। আছে তবলা, গিটার, তানপুরা। দেওয়ালে ছোট ছোট বাংলা হরফে লেখা ‘তোমায় গান শোনাব’। সব মিলিয়ে লিভিংরুমের অন্দরসাজ নজর কাড়বেই।

ড্রয়ইরুমের একদিকে ডাইনিং স্পেশ। আধুনিক ছিমছাম অথচ ডাইনিং টেবল এবং চেয়ার। সবচেয়ে ভাল লাগে চেয়ারে বসে বাইরে তাকালেই চোখে পড়ে গঙ্গা। খোলামেলা এমন পরিবেশে খাওয়াদাওয়ার মজাই আলাদা।

ডুপ্লে অ্যাপার্টমেন্টে উপরে ওঠার সিঁড়িও গৃহকর্ত্রী সাজিয়েছে মনের মতো করে। সিঁড়ির কোণায় রাখা নানা ধরনের হাতের কাজ। কোনটা কারুকর্য করা কেটলি, কোনটা রঙচঙা সুন্দর পাত্র। আসলে নানাধরনের ছোটখাট জিনিসকে নিজের ভাবনা আর হাতের ছোঁয়ার মুহূর্তে শোপিসে বদলে দিতে পারেন শিপ্রা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঁড়ি দিয়ে ওঠার দেওয়ালে বেশ কয়েকটি তাঁর নিজের হাতে আঁকা পেনটিং। ল্যান্ডিংয়ের কর্নারে ছোট টেবলের উপর সুন্দর শো পিস সাজানো।

বাড়ির মাস্টার বেডরুমও গঙ্গার দিকে মুখ করা।  বেডরুমের সজ্জা একেবারে ছিমছাম। কোনও বাড়তি সবাব নেই। ঘরে ঢুকে বড় ডবল বেডরুম খাট। খাটের একপাশে ছোট্ট সাইড টেবল। অন্যদিকে কাঠের আলমারি।  আলমারির পাশে ইজেল রাখা। তার পাশের দেওয়ালে কাটের স্লাইডিং ডোর/ জানলা। দিনের ঝকঝকে রোদ লুটোপুটি খাচ্ছে ঘরে ভিতর। বেডরুম থেকে ছোট্ট প্যাসেজ ধরে যাওয়া যায় ব্যালকনিতে। “ঘরের মধ্যে এটাই আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। গান শুনতে শুনতে এখানে সময় কাটাতে বড় ভাল লাগে।” ব্যলতনি থেকে বাইর্রে দৃশ্য সত্যিই মনোরম। সামনে বিস্তৃত শান্ত গঙ্গা আর সবুজের সমারোহ। শহরের বুকে থেকেও এমন নিরালা পরিবেশ, প্রকৃতির এত কাছে, এমন পরিবেশে মন হারাতে বাধ্য।

https://www.sananda.in/#/story?link=72958

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *